সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে বেশ কিছু অসঙ্গতি। একই সঙ্গে ভাইরাল হওয়া একটি জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ভিডিওটি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্ট জানিয়েছে, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজে থাকা টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। তবে ভিডিওটি কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে, মরিয়ম আক্তারের বাবা মাসুম বিল্লাহ দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের ১৭ জুন ঢাকার মগবাজারে তার কার্যালয়ে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিন লাখ টাকা দেনমোহরে সম্পন্ন হওয়া ওই বিয়ের কয়েক সপ্তাহ পর ১৩ জুলাই পারিবারিক এক বৈঠকের সময় গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়। এ ঘটনার জন্য তিনি এমপির সাবেক সহকারী ও তার শ্যালক ওবায়দুল্লাহকে দায়ী করেন।
বিতর্কের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরিয়মের একটি বায়োডাটা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, তার জন্ম ২২ মে ২০০৮ সালে এবং তিনি ২০২৬ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। একই নথিতে বৈবাহিক অবস্থার স্থানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও দেখা যায়, ২২ জুন ২০২৬ তারিখে ওই বায়োডাটায় সুপারিশকারী হিসেবে গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষর রয়েছে। তবে এই বায়োডাটার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বললেও, একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, তার স্বামীর সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে দাবি করে তিনি অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
মাসুম বিল্লাহর বক্তব্যও একই দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীও সেখানে ছিলেন। তার অভিযোগ, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে প্রচার করে তাদের সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।
নিজেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী পরিচয় দেওয়া মরিয়ম বেগমও পৃথক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, ২০২৬ সালের ১৭ জুন শ্যামনগরে তার বাবার বাড়িতে পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ১৩ জুলাই মগবাজারে তার বাবার কার্যালয়ে এমপির উপস্থিতি ছিল পারিবারিক সফরের অংশ। সেখানকার ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে জানান, বিষয়টি দল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বর্তমানে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে সময়, স্থান ও ঘটনার বর্ণনায় স্পষ্ট অমিল রয়েছে। এছাড়া ভাইরাল হওয়া বায়োডাটার সত্যতাও নিশ্চিত হয়নি। ফলে নিরপেক্ষ তদন্ত বা যাচাইকৃত প্রমাণ ছাড়া কোনো দাবি নিশ্চিতভাবে সত্য বলে বলা যাচ্ছে না।