বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের গ্যাস সংকট দ্রুত দূর করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। তার মতে, বর্তমান সংকটের মূল কারণ আগের সরকারগুলোর সময় থেকে জমে থাকা সমস্যা, যার সমাধানে সময় প্রয়োজন।
শনিবার সিলেট নগরের ধোপাদিঘীরপার এলাকায় কৃষিবিষয়ক এক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, গ্যাসের ঘাটতির কারণে শিল্পকারখানা ও উৎপাদন খাত চাপে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি এবং নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।
বর্তমানে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়া দুটি এফএসআরইউ থেকে সর্বোচ্চ ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব। ফলে মোট সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং নতুন সংযোগের চাহিদার তুলনায় তা অনেক কম।
এলএনজি আমদানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন এফএসআরইউ স্থাপন এবং সমুদ্র থেকে জাতীয় গ্রিড পর্যন্ত পানির নিচে পাইপলাইন নির্মাণের মতো কাজ সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লাগে। এসব অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় দুই বছর সময় প্রয়োজন হতে পারে।
বিকল্প ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সহায়তায় বড় জাহাজে এলএনজি এনে ছোট জাহাজের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় জাহাজের প্রাপ্যতা সীমিত থাকায় বিষয়টি নিয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।