ডেঙ্গু রোগীর চাপে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে একসঙ্গে চিকিৎসা, সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ অনুসন্ধান প্রতিদিন অনুসন্ধান প্রতিদিন প্রকাশিত: ১২:২৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৪, ২০২৬ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে একই ওয়ার্ডে ডেঙ্গা ও অন্যান্য রোগীর চিকিৎসা চলছে। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত ডেঙ্গু কর্নারের বাইরে অন্যান্য ওয়ার্ডেও রোগীদের ভর্তি করতে হচ্ছে। এতে হৃদরোগ, টাইফয়েড, জন্ডিস, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে একই ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা চলায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সোমবার (৪ আগস্ট) হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, রোগীর চাপ সামাল দিতে কয়েকটি ওয়ার্ডে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদেরও রাখা হয়েছে। শয্যা সংকটের কারণে কয়েকজন ডেঙ্গু রোগীকে মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাসপাতাল থেকে মশারি না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। হৃদরোগে চিকিৎসাধীন এক রোগী জানান, একই ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের রাখা হলেও সবাই নিয়মিত মশারি ব্যবহার করছেন না। এতে অন্য রোগীদের মধ্যে সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কর্নার রাখা হলেও রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় অন্য ওয়ার্ডেও রোগী রাখতে হচ্ছে। যাদের পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়, তাদের মশারি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে কোথাও ঘাটতি থাকলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোগীদের একটি অংশ জানান, ওয়ার্ডের কয়েকটি ফ্যান ঠিকমতো কাজ না করায় দিনের বেলায় মশারির ভেতরে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ে। ফলে অনেকে শুধু রাতেই মশারি ব্যবহার করেন। মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে জেলায় ৮৭৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে জুলাই মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ৫৫৫ জন। সোমবার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন, যার মধ্যে ৫০ জনই মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম বলেন, ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগীদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। তবে রোগীর চাপের কারণে একই ওয়ার্ডে রাখতে হলে ডেঙ্গু রোগীদের অবশ্যই মশারির ভেতরে রাখতে হবে, যাতে এডিস মশার মাধ্যমে অন্যদের সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। এদিকে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নষ্ট ফ্যান-লাইট এবং অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার নিয়েও রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। 📸 Download News PhotoCard (1080×1080) SHARES স্বাস্থ্য বিষয়: