ফ্রান্সে পালিয়েও রক্ষা হয়নি, ধর্ষণ মামলায় দণ্ডিত ব্রিটিশ-বাংলাদেশিকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে কারাগারে পাঠানো

প্রকাশিত: ৬:১৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবিঃ ফয়সাল আহমেদ

ধর্ষণসহ একাধিক গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ফয়সাল আহমেদকে ফ্রান্স থেকে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আদালতের দেওয়া ৮ বছরের কারাদণ্ড কার্যকরের জন্য তাকে ইতোমধ্যে ব্রিটিশ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৩৪ বছর বয়সী ফয়সাল আহমেদ ধর্ষণ, নিয়ন্ত্রণমূলক ও জবরদস্তিমূলক আচরণ এবং একটি শিশুর প্রতি অবহেলা ও নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সাজা এড়াতে যুক্তরাজ্য ছেড়ে ফ্রান্সে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি ভিন্ন পরিচয়ে বসবাসের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর নজর এড়াতে পারেননি।

মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালের নভেম্বরে। সে সময় চেশায়ারের ক্রু এলাকার একটি বাসা থেকে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। অভিযোগকারী এক নারী জানান, বাকিংহামের ওয়েস্ট স্ট্রিটের বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ কয়েক মাস ধরে তাকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই সময় তার শিশু সন্তানও নির্যাতনের শিকার হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চেস্টার ক্রাউন কোর্টের জুরি বোর্ড ফয়সাল আহমেদকে সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। তবে সাজা ঘোষণার আগেই তিনি আদালত থেকে পালিয়ে যান। এরপর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তার অনুপস্থিতিতেই ৮ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়।

পলাতক আসামিকে খুঁজে বের করতে চেশায়ার পুলিশ, ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস, ইন্টারপোল, ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি এবং ফ্রান্সের প্যারিস জুডিশিয়াল পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফ্রান্সে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ফয়সাল আহমেদকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে এনে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তিনি আদালতের দেওয়া সাজা ভোগ করছেন।

চেশায়ার কনস্ট্যাবুলারির ফোর্স ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডিটেকটিভ কনস্টেবল অ্যামি পেগন্যাম বলেন, বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে একজন দণ্ডিত অপরাধীকে আইনের আওতায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আইন থেকে পালিয়ে থাকার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।

এদিকে, মামলার প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্বে থাকা তদন্ত কর্মকর্তা সাইমন নোওলস ভুক্তভোগীর সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়ে বিচার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার মাধ্যমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।