সম্পদের পাহাড় নাকি বৈধ আয়? পদোন্নতির পর প্রশ্নের মুখে কাজিয়া সুলতানা অনুসন্ধান প্রতিদিন অনুসন্ধান প্রতিদিন প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২৬ একাধিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা কাজিয়া সুলতানার সাম্প্রতিক পদোন্নতি প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি তাকে বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের যুগ্ম কমিশনার (গ্রেড-৫) পদে পদোন্নতি দিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (যুগ্ম কমিশনার) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতির পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাজিয়া সুলতানা ও তার স্বামী, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য সামনে এসেছে। তবে এসব সম্পদের উৎস বা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর আফতাবনগরের জহুরুল ইসলাম সিটির একটি তিন কাঠার প্লট মহিউদ্দিন আহমেদের নামে ২০১৯ সালে নিবন্ধিত হয়। দলিলে জমিটির মূল্য তুলনামূলক কম দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের দাবি, প্রকৃত লেনদেনের পরিমাণ ছিল কয়েক কোটি টাকা। একই জমিতে পরবর্তীতে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ভাড়া দেওয়া রয়েছে বলে জানা গেছে। ভবন থেকে মাসিক উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভাড়া আয় হয় বলেও দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর। এছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, একটি বড় প্লট, উত্তর বাড্ডার একটি বাণিজ্যিক ভবনে দুটি দোকান, উত্তরা এলাকায় জমি, একাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি এবং গ্রামের বাড়িতে ব্যয়বহুল ডুপ্লেক্স ভবনের তথ্যও বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকারও বেশি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এনবিআরে চাকরিজীবনের বিভিন্ন সময়ে কাজিয়া সুলতানা রাজস্ব-সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব পদায়নের পেছনে এনবিআরের সাবেক এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার ভূমিকা ছিল। একই সঙ্গে পদায়নের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা লেনদেনের অভিযোগও বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো সরকারি সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ প্রমাণ করেছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্রগুলোর ভাষ্য, আইসিডি কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে তিনি পদোন্নতি পাননি বলে দাবি করা হয়। পরে তিনি ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ফাইল নিষ্পত্তিতে অনিয়ম ও আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফলাফল প্রকাশ হয়নি। পরবর্তীতে ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেটেও দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় আসে। অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই ২০২৬ সালের ২২ জুন জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কাজিয়া সুলতানাকে যুগ্ম কমিশনার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। বিষয়টি কাস্টমস ক্যাডারের একাংশের কর্মকর্তাদের মধ্যেও আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাজিয়া সুলতানার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন কর্মকর্তা বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে কমিশন প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করে থাকে। তবে তিনি এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো অনুসন্ধান বা তদন্তের তথ্য নিশ্চিত করেননি। প্রকাশিত তথ্য ও বিভিন্ন সূত্রের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সিদ্ধান্ত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে নতুন তথ্য, সরকারি তদন্তের অগ্রগতি কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। 📸 Download News PhotoCard (1080×1080) SHARES অপরাধ বিষয়: