স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে উত্তপ্ত সংসদ, বিরোধী জোটের ওয়াকআউট

প্রকাশিত: ১২:২৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ অধিবেশন। প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানালে অধিবেশন কক্ষে হট্টগোল ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও বিভিন্ন দাবিতে শেষপর্যন্ত সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী জোটের সদস্যরা।

ঘটনার সূত্রপাত হয় প্রশ্নোত্তর পর্বে। সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান। জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্নটিকে ‘শাহবাগ স্কয়ারের বক্তব্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরপরই বিরোধী দলের সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে সংসদ কক্ষে ব্যাপক হট্টগোল দেখা দিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের আসনে বসে স্পিকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিরোধী দলের সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এটি অতীত সরকারের আমল নয়, যেখানে স্বাধীনভাবে সমালোচনা করা যেত না।

পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, সংসদের ভেতরে এ ধরনের তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করার পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য কার্যপ্রণালী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, দাবি পূরণ না হলে অপমান সহ্য করে সংসদে অবস্থান করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।

পরে স্পিকার জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য তিনি পরীক্ষা করে দেখবেন। সেখানে কোনো অসংসদীয় শব্দ পাওয়া গেলে তা কার্যপ্রণালী থেকে এক্সপাঞ্জ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংসদে একে অপরের বক্তব্যে বাধা দেওয়ার প্রবণতায় বিরক্তি প্রকাশ করে ভবিষ্যতে সংসদের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগও জানান তিনি।

এদিন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহান দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মব সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কেউ যাতে নিজের হাতে আইন তুলে নিতে না পারে, সে জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অধিবেশনের শেষ দিকে বেসরকারি দিবসে সরকারি বিল উত্থাপনের প্রতিবাদ এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তুলে সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী জোটের সদস্যরা। পরে বিরোধী দলের সদস্যদের অনুপস্থিতিতেই সংসদে কয়েকটি প্রয়োজনীয় বিল উত্থাপন করা হয়।